Search

ডিজিটাল ডায়েট:

আমরা আমাদের ডিভাইসের উপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি, বিষয়টি শুধু মাত্র দেখার মধ্যে আর সীমিত নেই এবং এখন আগের তুলনায় আমরা আমাদের ডিভাইসগুলি যোগাযোগ করার জন্য, তথ্য পেতে এবং 24/7 যোগাযোগে থাকার জন্য ব্যবহার করছি। এই ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে আমরা ইউ টিউব/ ফেস বুক আরও অন্যান্য পেইজ দেখছি, ভিডিও গেইম খেলছি, যোগাযোগ করছি একে অন্যের সাথে, প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছি এবং আমাদের তথ্য শেয়ার করছি। কিন্তু আমরা জানছি না আমরা আমাদেরকে কিভাবে ক্ষতি করছি, এই ধরুন যখন আমাদের কাছে ফোনটি যদি সর্বদা না থাকে তখন এটি কেন নেই এই ডিভাইসের জন্য উদ্বেগ বা স্ট্রেস বোধ করি।

সেল ফোন "নেশা" কী? আমাদের বেশিরভাগের জন্য, আমরা আমাদের সেল ফোন বা অন্যান্য ডিভাইসটি আমাদের কাছে রাখতে চাই। আর কোন কারণে আমরা যদি ফোনটি ভুলে যাই বা এটিকে কোথাও ফেলে রাখি তবে কিছুটা হালকা উদ্বেগ আমরা বোধ করি, আমাদের মধ্যে যে একটি তাড়না তৌরি হয় তা কোনও অস্থিরতার চেয়ে কিন্তু কম নয়। আপনার সেলফোনে আসক্তি থাকতে পারে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় যে কোনও নেশা থাকতে পারে, যেমন: যখন ইউ টিউবে কোন কিছু আমরা দেখতে শুরু করি তখন আমরা নিজেরাই ভুলে যাই বা পরে করবো কাজটি বলে নিজেদেরকে বোঝাই, এই ধরুন টয়লেটে যাওয়া, ঘুমাতে যাওয়া, হাটতে যাওয়া ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কাজ।

কোনও ব্যক্তি সামাজিক মিডিয়া বা ফোনে আসক্ত হওয়ার কারণ কি (এটি কি কোনও বাধ্যবাধকতা নাকি আমি সবার সাথে সংযুক্ত থাকতে পারছি না সেই ভয়)?

অনেকগুলি বিষয় প্রতক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত। প্রথমে আলোচনা করা যাক আচরণ নিয়ে; আচরণগতভাবে, ফোন এর সাথে সব সময় সংযুক্ত থাকা এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেকে নিযুক্ত রাখার প্রখর প্রবণতা থাকতে পারে। এছাড়াও, কে পোস্টটিকে "পছন্দ" (like) এবং অন্য কোন কমেন্ট করলো কিনা এই কমেন্টের সাথে নিজেকে পুনর্বহাল রাখা, এই ধরুন হাসির কোন ছবিতে কেউ দুংখ প্রকাশ অথবা কষ্টের কথায় হাসির রিএক্ট দেওয়া দেখে এই বিষয় নিয়ে নানাবিধ চিন্তা ভাবনা করা, মন খারাপ করা, এমনকি সম্পর্ক নষ্ট করে দেওয়া। যেহেতু নতুন নতুন কমেন্টস এবং রিঅ্যাকশন পাচ্ছেন তাই আপনি আপনার অজান্তে একটি সজাগ ভূমিকা রাখবে, আপনাকে ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত রাখার জন্য। তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পেতে নোটিফিকেশন এর জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।

নানারকম ডেটা থেকে বোঝা যায় যে ইলেকট্রনিক্সে বেশি সময় ব্যয় করা শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের উদ্বেগ ও হতাশার হার বেড়েছে। কারণ ডিভাইসগুলির ব্যবহারে ডোপামিন পাথকে শক্তিশালী করে, এমন একটি নিউরোট্রান্সমিটার যা আমাদের ভালো আচরণের সাথে জড়িত "ভাল বোধ করে" রাসায়নিক হিসাবে প্রস্তাব করার জন্যও কিছু তথ্য রয়েছে। যখন এই পথটিকে সচল করা হয় না, আমরা আসলে আমাদের মস্তিষ্কে রাসায়নিক এই উৎপাদন করা থেকে বিরত থাকি।

"আসক্ত" হওয়ার লক্ষণগুলি ?

আসক্তির লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে সেলফোন নিয়ন্ত্রণ, ব্যবহারের সাথে মেজাজে পরিবর্তন, ডিভাইসের সহনশীলতা এবং সেল ফোন / ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা যেমন রাগ বা বিরক্তি, চিন্তা করতে অসুবিধা, ডিভাইসটি না থাকার কারণে বারবার ফোকাস, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা এবং ডিভাইসটির প্রতি অতিউৎসাহী।

সেল ফোন "আসক্তি" কোনও ব্যক্তির সম্পর্কের উপর কীকী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং কিভাবে?

সেল ফোন আসক্তি আপনার সম্পর্ককে ভেঙ্গে দিতে পারে! যখন আমরা কারও সাথে কথা বলার সময় যদি আমরা আমাদের ফোনের সন্ধান করি এর অর্থ হলো যে, আমরা তাদের প্রকাশ না করেও বলে ফেলছি যে আমাদের নজরে এমন কিছু এসেছে যা তাদের (যার সাথে কথা বলছি) চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনি এই কারণে কথা না শুনে, আপনি সেল ফোনে মনোনিবেশ করেছেন। যদি আমরা আমাদের সেল ফোনগুলিকে খাবার খাওয়ার সময় অথবা ব্যক্তিগত মুহূর্তে একসাথে কথা না বলে, আমরা আমাদের মানসম্মত সময়টিতে সত্যিকার অর্থে ব্যস্ত থাকছি ও উপস্থিত হতে পারছি না, যা আপনার কাছের মানুষটিকে জানিয়ে দেয় যে এমন কিছু ঘটছে না যা তাদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথবা আপনি তার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন না, আপনার শারীরিক এবং মানসিক ভাবে উপস্থিত থাকা অবিশ্বাস্যরূপে গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি যদি এমন হয় যে আপনার ফোন / ডিভাইসটি চেক করতে হয় তবে আপনি অন্য ব্যক্তিকে কেন তা জানাচ্ছেন না, আপনি যাদের সাথে কথা বলছিলেন তাদের কে বলে আপনি সেল ফোন চেক করে নিতেই পারেন।

আসক্তি থেকে বেড়িয়ে আসার উপায় ? -আপনার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা রাখুন এবং নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি সেগুলি অনুসরণ করছেন। -নিজেকে একটি "ডিজিটাল ডায়েটে" রাখার বিষয়ে নিশ্চিত হন এবং আপনি যে অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করেন তা কমিয়ে দিন, এমনকি আপনার ফোন থেকে কিছু এপপ্স ডিলেট করে ফেলুন! -আপনি আপনার ফোনে যে সময় ব্যয় করছেন তার পিছনের কারণটি খুঁজে দেখুন এবং দিনের নির্দিষ্ট সময়ে এটিকে একটি জায়গায় রেখে দিন যাতে আপনি এটি ব্যবহারে প্রলোভিত না হন । -নিজের এবং আপনার সন্তানের জন্য একটি সময়সূচি করতে পারেন এবং কি কি বিষয় আপনি সারাদিন করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে রাখুন। -মিডিয়া সর্বত্র। টিভি, ইন্টারনেট এবং ভিডিও গেমস সমস্ত শিশুদের মনোযোগে কেড়ে নিচ্ছে । শিশুরা খুব সহজেই ইউ টুইব দেখছে এবং নানান বাহানায় মা বাবা তাদেরকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে আসক্ত করছেন, শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে এবং পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। আজকের শিশুরা টেলিভিশন, কম্পিউটার, ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস সহ বিনোদন মিডিয়ায় প্রতিদিন গড়ে সাত ঘন্টা ব্যয় করে। - শিশুর সঠিক বৃদ্ধিতে ঘুম, খাওয়া, খেলার সময়, ঘুরতে যাওয়া/ ঘরের মধ্যে ব্যায়াম করা ইত্যাদি অনেক রকমের কার্যক্রম থাকে যা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ সহায়তা করে।

শিশুর আসক্তি কমানোর পূর্বে পারিবারিক সকলের সেল ফোন ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে: -নির্দিষ্ট সময় ছাড়া ফোন ব্যবহার করা যাবে না। -ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখুন -সবাইকে জানিয়ে দিন আপনি যখন তখন ফোনে কথা বলতে পারবেন না -শিশুকে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া সেলফোন বা অন্য কোন ডিভাইস দেওয়া যাবে না -আসক্তি থাকলে হঠাৎ করে বন্ধ করা যাবে না, ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে

পারবর্তী লেখাটি লিখবো কিভাবে শিশুকে ডিভাইস থেকে সরিয়ে আনতে পারেন, কম সময়ের জন্য শিশু অবশ্যই ভিডিও দেখা বা গান শোনা বা গেইম খেলতে পারবে কিন্তু আসক্তি নয়। সাথে থাকুন, ভালো থাকুন।




4 views0 comments