Search

নবজাতকের নেপি বা ডাইপার:

শিশু নবজাতক অবস্থায় ঘন ঘন মলমূত্র (poo and pee) ত্যাগ করে থাকে। আমরা এই ঘন ঘন মলমূত্র থেকে ঘর বাড়ী পরিষ্কার রাখতে এবং শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নেপি বা ডাইপার ব্যবহার করে থাকি।বিংশ্ব শতাব্দীর মাঝামাঝিতে নেপি(Disposable nappy) আবিষ্কার হয়। বৃটেনে,ভেলেরিয়া হান্টার গর্ডন ১৯৪৭ সালে তার তৃতীয় শিশু জন্মের পরবর্তী সময়ে নেপি তৌরি করে থাকেন। তিনি এই নেপি বা ডাইপারের এক-তৃতীয়াংশ নকশা বা ধারণা দিয়ে থাকেন, পরবর্তীসময়ে এর পরিবর্তিত রূপ হলো এখনকার নেপি বা ডাইপার.

শিশু নবজাতক অবস্থায় বেশি নেপি ব্যবহার করা হয়ে থাকে কারণ শিশুর ঘন ঘন মলমূত্র ত্যাগ করে থাকে, শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঘন ঘন মলমূত্র তাগ্যের পরিমান কমে আসতে শুরু করে সুতারং শিশুর ১৮ মাসের পর থেকে ২৪ মাসের মধ্যে পটিতে বসিয়ে টয়লেট করা শেখানোর জন্য উপদেশ দেওয়া হয়ে থাকে। শিশু নবজাতক অবস্থায় ঘন সবুজ বা কালো পায়খানা করে থাকে, এটি নবজাতকের প্রথম বাউল মুভমেন্ট, মেকানিয়াম ( meconium) দ্বারা তৌরি হয়ে থাকে। মেকানিয়াম এর পরবর্তী পর্যায়ে নবজাতক হলুদ রঙ্গের পায়খানা করে থাকে, এই সময়ে নরম এবং পাতলা হয়ে থাকে। প্রতিটি শিশু আলাদা কিন্তু তারপরও কমপক্ষে ৬টি ভেজা নেপি এবং ২টি পায়খানার নেপি আশা করা হয়ে থাকে।

নেপি রাশ: গরমে বা শীতে শিশুর নেপি রাশ খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। শিশুর পৃষ্ঠদেশে (baby's bottom) যখন লাল রঙ্গের প্যাচেস বা দাগ দেখা যাবে, স্কিন একটু ফুলে যাবে, ধরলে উষ্ণ গরম অনুভূতি হবে তাকে নেপি রাশ বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে লাল রঙ্গের ঘামাচি বা ব্লিস্টার হয়ে ঘাঁ হতে পারে। এই লাল রঙ্গের ঘামাচি কষ্টদায়ক হয় না কিন্তু যদি তা ঘাঁ এ পরিণত হয় তখন শিশু অস্বস্তি অনুভব করে এবং শিশু হতাশায় ভোগে । তিনটির শিশুর মধ্যে একটি শিশুর নেপি রাশ হয়ে থাকে, বিষয়টি এমন নয় যে শুধু নবজাতকের নেপি রাশ হয়ে থাকে, যে কোনো বয়সে হতে পারে।

নেপি রাশের কারণসমূহ: *যদি অনেক সময় পর্যন্ত মলমূত্র করা নেপি পরিবর্তন না করা হয়ে থাকে *নেপি যদি নবজাতকের চামড়ার সাথে সামঞ্জস্য না হয় *নবজাতকের ব্যবহৃত প্রসাধনী যদি তার স্কিন এর সাথে সামঞ্জস্য না হয় *নেপিতে যদি এলকোহল মিশ্রিত থাকে *নবজাতক যদিএন্টিবায়োটিক্স নিয়ে থাকে *শিশুর স্কিন যদি নাজুক হয় *শিশুর বাড়তি খাবারে যদি কোন ধরনের এলারজি থাকে, শিশু সব খাবারেই যে সহনশীল হবে তা কিন্তু নয়।

নেপি রাশ না হওয়ার উপায়: • নবজাতকের নেপি রাশ হলে আপনি ঘরে বসে শিশুর যত্নের মধ্যে নিয়ে শিশুর সুন্দর একটি রাশমুক্ত দিন উপহার দিতে পারেন • নবজাতকে নেপি পড়ানোর সময় ক্রিম ব্যবহার করা যাতে করে শিশুর ত্বক রক্ষা করে, আপনি ফার্মাছি বা ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন, ব্রিটেনে সুডা ক্লিম খুব প্রচলিত শিশুর ত্বকের জন্য। • যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুর অপরিষ্কার নেপিটি পরিবর্তন করুন • নেপি তুলা বা ভিজা টিস্যু দিয়ে পরিস্কার করার সময় মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে উপর থেকে নিচে পরিষ্কার করতে হবে এবং ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে পিছন থেকে সামনের দিকটি পরিষ্কার করতে হবে। • যথাসম্ভব পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত পানি ব্যবহার করুন, বাইরের সুগন্ধযুক্ত ভিজা টিস্যু/ এলকোহল ওয়াইপ্স ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন • প্রতিদিন গোসল করাবেন কিন্তু একবারের বেশি গোসল করানা থেকে বিরত থাকুন। • শিশুর গোসল বা নেপি পরিবর্তেনের সময় হালকা ভাবে শরীর মোছাবেন-জোড়ে শরীর ঘষাঘষি করবেন না • মাঝে মাঝে নেপি ছাড়া শিশুকে তোয়ালের উপরে রাখতে পারেন যাতে করে ফ্রেশ বাতাসের সন্ন্যিধ্যে আস্তে পারে। • সাবান, লোশন এবং বাবল শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না • কোনো ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা যাবে না যাতে করে রাশ এর সৃষ্টি হতে পারে • সাধারানত তিন দিনের মধ্যে নেপি রাশ কমে যায় যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাহয় • প্রয়োজন বোধে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

বি.দ্র. শিশুর পৃস্টদেশ পরিষ্কার পানি দিয়ে তুলার মাধ্যমে মুছে যখন স্থানটি সম্পূর্ণ পানিমুক্ত হবে তখন কর্নফ্লোর(corn flour) ব্যবহার করতে পারেন, খুব দ্রুত ফলাফল পাবার জন্য, কোন বই বা গুগল এ এই তথ্যটি পাবেন না, এই তথ্যটি দীর্ঘ দিন কর্ম জীবন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত এবং আমার ২টি সন্তানের জন্য আমি সুদা ক্রিম বা কোন ক্রিম ব্যবহার করিনি। যখন তাদের রাশের মত মনে হয়েছে তখনই আমি কর্নফ্লোর ব্যবহার করেছে। ভালো থাকবেন। Tripti Poddder Early years Expert England




3 views0 comments