Search

প্রত্যেক মানুষ চায় তার আবেগকে প্রকাশ করতে

প্রত্যেক মানুষ চায় তার আবেগকে প্রকাশ করতে, এটি তার মৌল প্রবৃত্তি। জন্ম নিয়েই শিশু কেঁদে তার অস্তিত্বকে জানান দেয়, সবাইকে জানিয়ে দেয় তার উপস্থিতি, পাশাপাশি সে চায় অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এই যোগাযোগ করতে এবং আবেগ প্রকাশ করতে হলে প্রয়োজন হলো ভাষার। ভাষা প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে উচ্চারিত ভাষা অথবা ইশারা ভাষায়। ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাতে মানব শিশুর মধ্যে মানসিক চাপ কম থাকে, যেকোনো পরিস্থিতি সে সামলে নিতে পারেন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের জন্য ভাষা বোঝা বা ভাষার প্রকাশপদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, যেমন: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইলপদ্ধতি। যারা শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধী তাদের জন্য ইশারা ভাষার মাধ্যমে কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব। যদি বিশেষজ্ঞরা উপদেশ দিয়ে থাকেন যে শিশুর জন্য ইশারা ভাষার প্রয়োজন, তবে অযথা সময় নষ্ট না করে তাকে ইশারা ভাষার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। UK তে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের সাথে ইংলিশ ভাষার সাথে সাথে ইশারা ভাষায় যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। নানাভাবে ও নানা কারণে শিশুর ভাষা শিখতে দেরি হতে পারে। এ কারণগুলো হলো, শিশু যদি জন্মগতভাবে বাক্‌ বা শ্রবণপ্রতিবন্ধী হয়, শিশুর যদি স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা (অটিজম, এডিএইচডি, যোগাযোগ–বৈকল্য বা কমিউনিকেশন ডিজ–অর্ডার ইত্যাদি) থাকে অথবা শিশু যদি একা একা বেড়ে ওঠে যেমন: কোন শিশু যদি পরিবারে থেকে ও অন্য কারো পারস্পরিক সহযোগীতা না পায়।তবে সেই শিশুর ভাষা শিখতে জটিলতা হতে পারে। প্রথমে আধো আধো তারপর অর্থহীন শব্দ উচ্চারণ করে এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে মাত্রা সংযোজিত হয়। আশপাশের মানুষ আর প্রকৃতির সঙ্গে সে নিজের অর্থবোধক যোগাযোগ স্থাপন করে। শিশুর বাক্‌যন্ত্র যদি স্বাভাবিক থাকে, সে যদি জন্মগতভাবে শ্রবণপ্রতিবন্ধী না হয় বা শিশুর মধ্যে যদি কোনো স্নায়ুবিকাশগত সমস্যা না থাকে, তবে একজন স্বাভাবিক শিশুর ভাষার বিকাশ খুব ছোট বয়স থেকেই শুরু হয়। হয়তো গ্রামার অনুসরন করে, নিয়ম মেনে বাক্য বলতে পারে না কিন্তু দুই বছর বয়সের মধ্যেই বেশির ভাগ শিশু দুটো শব্দ মিলিয়ে নিজের মনের ভাব, আবেগ বা চাহিদা প্রকাশ করতে পারে। জানুন, আপনার শিশু অনুকরণ করতে পারছে কিনা? জানুন, আপনার সন্তান কানে ঠিকমত শুনছে কি না? ভালো থাকবেন।



29 views0 comments