Search

শিশুকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখবেন:

আমরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যেতে চাই এবং যাই, এই ঘুরতে যাওয়া শিশুর, বাবা মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই দরকার কিন্তু আপনি ঘুরতে গিয়ে যদি অস্থির থাকেন কারণ আপনার শিশুটি পরে গেলো কিনা, ব্যথা পেলো কিনা, পানি ধরলো কিনা, মুখে কিছু দিলো কিনা এমন আরও অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতা আপনার সামনে চলে আসবে; সেক্ষেত্রে আপনি যদি শিশুকে শিশুসুলভ বা শিশুবান্ধব পরিবেশে নিয়ে যান তাহলে শিশুকে নিয়ে চিন্তা অনেকটা কমে যাবে এবং আপনিও সময়টা উপভোগ করতে পারবেন।

শিশুবান্ধব পরিবেশ বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছি, এই ধরুন আপনার সন্তান যদি পানি পছন্দ করে তবে তাকে সমুদ্রদেখতে নিয়ে গেলে আপনি ঝামেলায় পরবেন, আপনাকে যেতে হবে কটেজ(cottage) বা এমন কোন জায়গায় যেখানে সে ইচ্ছে করলেই পানির মধ্যে লাফাতে যাপাতে পারবে এবং কোনো বিপদ হবে না। আপনি


নিজেও এই সুন্দর মুহূর্তটুকু উপভোগ করতে পারবেন.

শিশুরা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে দেখে শেখে। মা বাবা এবং অন্য সবাই কি করছে তাদেরকে অনুকরণ করে। কিন্তু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুকে শেখানোর জন্য আমাদেরকে একটা কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে দিতে হয় বা অতিরিক্ত শ্রম দিতে হয় আর তখনই মূলত ভিন্নতা শুরু হয়। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুকে পরিবেশ থেকে শেখানোর জন্য প্রতিদিন অনুশীলন করাতে হয়। এরপর সে শেখে কখনো একই কাজ ১০/১২ বার পুনরায় করতে হয়, বলতে হয়, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ৩মাস/৬ মাস/১ বছর থেকে কখনও ৩/৪ বছরও লেগে যেতে পারে কোন একটি স্বাভাবিক বিষয় শিখতে, এটা নির্ভর করে শিশুর সক্ষমতার উপর। কোন শিশু দ্রুত শেখে আবার কোন শিশু ধীরে ধীরে শেখে।


বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে মূলত যে দক্ষতাগুলো নিয়ে কাজ করানো হয়, তা হলো: # দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা (daily activities) # অংগসঞ্চালন মূলক দক্ষতা (motor skills) # যোগাযোগের দক্ষতা ( communication skill) # সামাজিক দক্ষতা( social skill) # জ্ঞানীয় দক্ষতা ( cognitive skill)


শিশু যদি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হয় সেক্ষেত্রে শিশুর উপরোক্ত বিষয়গুলো শিখতে এবং আমরা যেভাবে চাই সেই উপযোগি ব্যবহার করতে সমস্যা হবে। আমরা বললাম, “অনেক টাকা পয়সা খরচ করে তোমাকে সমুদ্রে নিয়ে এসেছি so তুমি কোন কথা বলবে না, এখানে বসে পানি দেখো।” আরেকটি উদাহরন: শিশুকে নিয়ে ফার্ম অর্থ্যাৎ পশু পাখি দেখাতে গিয়ে যদি বলেন, “এই কোন পশুর গায়ে হাত দেবে না, ওদের গায়ে অনেক জীবাণু থাকে". শিশু সে শিশু। শিশুদের পরিচর্যা করা অনেক কঠিন। যদি তাদের থাকে বিশেষ চাহিদা অথবা দরকার থাকে অতিরিক্ত যত্নের তবে কি আপনি ঘুরতে যাবেন না, আপনি এবং আপনার শিশু কি আটকে থাকবেন একটি রুমের মধ্যে।না কখনো না।


ভেন্যু ঠিক করার পূর্বের প্রস্তুতি, কিছু অনুরোধ রইল সেক্ষেত্রে আপনার করণীয়: # শিশু ৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশুবান্দব পরিবেশে ঘুরতে যান, যেখানে শিশু ওর মত করে ছুটে বেড়াতে পারবে, আপনিও অস্থিরতা থেকে বাইরে থাকবেন, যেমনঃ চিৎকারের কারণে কোন লোকজন কিছু বললো কিনা বা এতো জোড়ে কাঁদছে কেন এই নিয়ে চিন্তা করতে হবে না কারন সবাই শিশুদের মাবাবা থাকবে, সম অভিজ্ঞতার স্বীকার।

# ভেন্যু ঠিক করার আগে শিশুর সেন্সিভিটি চেক করুন, যেমন ধরুন: যদি শিশু শব্দে কানে হাত দেয় তবে তাকে সিনেমা হলে নিয়ে যাওয়া যাবে না কারন শব্দে সে অস্থির হয়ে যায়।

# শিশুর খাবার শিশুর মনমত হচ্ছে কিনা বা হবে কিনা চেক করে নিন

# পোশাক শিশুর পরিবেশ উপযোগী কিনা কারন শিশুকে বালির মধ্যে ছেড়ে দিয়ে যদি বলেন বালি দিয়ে খেলবে না সেটা শিশুর এবং আপনার জন্য শুভকর হবে না বরং আপনার সারাদিনের প্লানকে নষ্ট করে দিতে পারে।

# পোশাকের ভিন্নতা রাখা যাতে খুব সহজেই পোশাক পরিবর্তন করতে পারেন

# যাতায়াতব্যবস্থা আরামদায়ক কিনা তা চেক করে নিন

# নিয়মিত ব্যবহারের জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়া যেমন: শিশুর পছন্দের খেলনা। শিশুর কমফোর্টকে ছাড় দেওয়া যাবে না।

Take care everyone.




5 views0 comments