Search

শিশুর সার্বিক সঠিক বিকাশে প্যারেন্টিং

শিশুর সার্বিক সঠিক বিকাশে প্যারেন্টিং এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কারণ শিশু তার জীবনের প্রথম তিনটি বছর অথবা পাঁচটি বছর তার নিকটতম পরিবেশ অর্থাৎ মা বাবা এবং অন্যান্য আত্মীয়দের কাছ থেকে শিখে থাকে, তাই শিশুর ভালো ভবিষৎ চাইলে আপনাদের আগে পরিবর্তন হওয়াটা জরুরী। আমি গত ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিশুর বিকাশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, আজকের লেখাটি অভিজ্ঞতা থেকে বলবো, যারা কথাগুলো মেনে চলতে পারবেন তারা আপনার শিশুর আচরনের সাথে অন্য শিশুদের আচরণে পার্থক্য দেখতে পারবেন। টিপসগুলো নিন্মলিখিত: 1) বয়স উপযোগী প্রতিদিনকার কাজ করতে শেখান: শিশুকে যদি ছোটবেলা থেকে তার প্রতিদিনকার কাজ করতে শেখান তাহলে শিশুর ফাইন মোটর এবং গ্রস মোটর বিকাশ সঠিক দিকে আগাবে যার ফলে শিশুর হাতের লেখা, মনযোগী হয়ে কথা শোনার ক্ষমতা বাড়বে। আমরা অনেকে মনে করি, আমার সন্তান কেন কাজ করবে, আমার কি টাকা পয়সার অভাব আছে। শিশুর বিকাশগত সমস্যা ধনী বা গরীব বুঝে হবে না তবে দেখা যায়, পরিবেশগতভাবে সৃষ্টি হচ্ছে শিশুর অনেক বিকাশগত ত্রুটি যার প্রধান কারণ সচেতন প্যারেন্টিং। 2) চ্যালেঞ্জ: শিশু যা জানে তা শিশুর জন্য চ্যালেঞ্জ নয়, শিশুকে নতুন নতুন বিষয় জানার জন্য চ্যালেঞ্জ দিন যাতে করে শিশু আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে, শিশু যখন আত্মবিশ্বাসী হবে তখন যে কোন কাজ নিচের উৎসাহে করতে পারবে, সফলতা তার আসবেই। 3) কৌতুহল: শিশুর নানা বিষয়ে কৌতুহল থাকবে, অভিভাবকদের কাজ হলো শিশুর এই কৌতুহলকে সঠিক তথ্য দিয়ে জ্ঞান আহরণে আগ্রহী করে তোলা, আমরা সাধারণত শিশুকে দমিয়ে দিয়ে থাকি, ছোট মানুষ এতকিছু জানতে হবে না এই ধরণের কথা বলে, শিশুকে জানার মনকে আরও একটি আবরণ দেই, প্রথমত; শিশুকে জানাচ্ছি না আর দ্বিতীয়ত; শিশুটি ছোট তাই তার অধিকার নেই কোনো কিছু জানার। এমনকাজ বা কথা শিশুকে কখনো বলা উচিত নয়। 4) অনুপ্রেরণা: আমরা বয়স্করা প্রতিদিন হাজারো ভুল করছি কিন্তু আমরা কজন নিজেদের ভুল স্বীকার করে থাকি, শিশু ভুল করবে, শিশুকে বলতে হবে ভুল থেকে আমরা সঠিক বিষয় শিখে থাকি, এটাই স্বাভাবিক। তাকে সর্বদা ভুলের জন্য দোষারোপ করা যাবে না। ভুলগুলো থেকে সেযেন শিখতে পারে এবং পরবর্তীতে সাফল্যের জন্য অনুপ্রেরণা পায়, সেজন্য মনোযোগী হতে হবে। 5) সমালোচনা: শিশুর সামনে অন্যের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন, এমনকি শিশুর অপারগতা নিয়ে সমালোচনা করা উচিত নয়। কারণ সমালোচনায় শিশু নিরুৎসাহিত হয় এবং তার আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। শিশুকে সমালোচনায় রাখলে সে ভবিষতে নিন্দুক হয়ে উঠবে এবং পরনিন্দা করা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। 6) সমস্যা নির্ণয়: শিশুকে SPOONFEED করা থেকে বিরত থাকুন, SPOONFEED বলতে বোঝাচ্ছি বেবি বেবি মনোভাব। শিশু যদি ছোট ছোট সমস্যা থেকে তাকে উদ্ধার করতে না পারে তবে ভবিষতে প্রতিটি কাজে সে আপনার বা অন্য কোন মানুষের উপর নিরভরশীল হবে, যেমন ধরুন: বাংলাদেশী বেশিরভাগ পুরুষেরা নিজেদের কাজ করাটাকে লজ্জার মনে করে অথবা করতে পারে না তাই তারা স্ত্রী অথবা মা অথবা কাজের মহিলাদের উপর নির্ভলশীল হয়ে থাকে। এই বেশিরভাগ পুরুষদের SPOONFEED করা হচ্ছে, আর সে কাজটি করছে অন্য কেউ। ছোটোবেলা থেকে তাদের যদি SPOONFEED করা না হতো তাহলে ঘরের কাজে তারা তাদের সন্তানের মাকে সাহায্য করতো যার ফলে একজন মা খুব সহজে শিশুর উপর মনযোগী হয়ে উঠতে পারতেন। আমি অনেক পুরুষের কথা বলছি, যারা নিজেদের কাজ করেন তাদের কথা বলিনি। সুতারং আপনি যদি সব সমস্যা নির্ণয় করে সমাধান করে দেন তাহলে তা কোনোভাবেই শিশুকে স্বাবলম্বী কিংবা আত্মবিশ্বাসী করবে না। তাই যে কোনো বিষয়ে তাকে সমস্যা নির্ণয় করতে দিন। শিশু ন্যায় ও অন্যায় বুঝতে পারবে। 7) গাইড করুন, নিয়ন্ত্রণ নয়: নিয়ন্ত্রণের ফলে শিশু তার নিজস্ব চিন্তাভাবনাকে কোনো সফলতা দিতে পারে না কিন্তু তাকে গাইড করলে শিশু আপনার থেকে ভালো কিছু করতে পারবে। কারণ আপনি যা জানেন তা তো আপনি জানেন কিন্তু আপনার শিশু যা জানে বা করতে চায় তা কিন্তু আপনি জানেন না তাই তার সর্জনশীল হওয়াকে প্রাধান্য দিন। প্রতিটি শিশু হতে পারে আগামী দিনের ভবিষৎ কর্নধার !!! ভালো থাকবেন। তৃপ্তি পোদ্দার লন্ডন


86 views0 comments