Search

শিশুর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় আপনার করণীয়:

শিশু তার নিজের হাত সহ মায়ের নাক, চুল, কাপড়, পিয়াজের ছোলা, জুতা এমন কোনো বস্তুগত উপাদান না নেই যা আপনার শিশুটি মুখে দেবে না, কারণ তার সহজাত প্রবৃত্তি সে মুখে দেবে। শিশুর শেখার একটি মাধ্যম হলে এই টেস্ট সেন্স। শিশু বয়স বাড়ার সাথে সাথে মুখে দেবার প্রবনতা কমতে শুরু করে। কিন্তু শিশু যখন মাস 4/5 মাস থেকে 16 মাস পর্যন্ত তার এই প্রবণতা বেশি থাক, অনেকক্ষেত্রে শিশু ধীরে ধীরে নিজে থেকে কোন বস্তু মুখে দেওয়া বন্ধ করে আবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু কৌশল মা বাবা কে অবলম্বন করতে হয় এই মুখে দেবার প্রবণতাকে বন্ধ করার জন্য। কিছু কৌশল: ১) মুখে দিতে আমরা বাধা না দিয়ে শিশুকে মুখে দেবার মতো করে একটি সেন্সরি খেলনার বাক্স করে দিতে পারি। যেমন: একটি সফ্ট খেলনা, কিছু কাঠের চামচ, কিছু সিলভার এর প্লেইট গ্লাস ইত্যাদি অবশ্যই কোনো প্লাষ্টিক থেকে বিরত থাকবো। ২) নির্দিষ্ট সময়ে এই বক্সটি দিতে পারেন তার খেলার জন্য যা কিনা তার সেন্সরি ডায়েট নিতে সাহায্য করবে। ৩) শিশুকে তার পছন্দের টেক্টাইলে উপর ভিত্তি করে কমফোর্ট খেলনা দিতে পারেন, যেমন: ছোট রুমাল, নরম পুতুল বা নকল চুল ইত্যাদি। ৪) শিশুর সেন্সরি ইনপুট শিশুকে খুব সহজেই তার শেখায় সাহায্য করবে, কিভাবে? এই বিষয় নিয়ে অন্য দিন আলোচনা করবো।

শিশুর খেলনা পরিষ্কার: শিশুকে খাবার খাওয়ানোর জন্য এবং শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আমরা অনেক ভাবে তাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি কিন্তু শিশু কোন বস্তু মুখে দেবার মাধ্যমে যে অসুস্থ্য হচ্ছে আমরা অনেকে জেনেও না জানার অভিনয় করি বা কাজের ভয়ে আলসেমি করে থাকি। ২০০৮ সালে, আমি UK তে কাজ শুরু করি একজন ডে কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে, একদম শুরুর দিকে, এই ধরণের কাজগুলো সাধারনত স্কুল শেষ করা শিক্ষার্থিরা করে থাকে। আমি বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স করে এসেছিলাম কিন্তু নতুন পেশায় আসা এই শিক্ষার্থির মধ্যে হেলথ এন্ড সেফটি সচেতনা আমার থেকে অনেক গুন বেশী ছিল, কেন বা কি কারণ তা আলোচনায় যাচ্ছি না। প্রতিদিন রুটিনের মাধ্যমে প্রতিটি খেলনা পরিষ্কার করার একটি চার্ট ছিল এবং সপ্তাহে ১দিন প্রতিটি খেলনা জীবাণুমুক্ত করতে হয়, খেলনা জীবাণু মুক্ত করার পর স্বাক্ষর করতে হতো প্রমান করার জন্য যে সে কাজটি ঠিকমত করেছে কিনা। আমার প্রতিটি ভিডিও ও লেখার উদ্দেশ্য থাকে মা বাবা অথবা পরিচর্যাকারীকে সচেতন করা, একজন বাবা হিসেবে আপনি কবে আপনার শিশুর খেলনাটি জীবাণুমুক্ত করেছেন। মা হিসেবে আপনার ও দায়িত্ব শিশুর সার্বিক বিকাশে শিশুর সুস্থতার জন্য খেলনা পরিষ্কার করা। এখন এই করোনাকালীন সময়ে এর গুরুত্ব আরও বেশি, শিশুটি মুখে দিচ্ছে সেই খেলনাটি অন্তত সপ্তাহে একবার সুন্দরভাবে পরিষ্কার করবেন তাতে আপনার সন্তান মুখে দিলে ও তার ডায়রিয়া বা সংক্রামিত কোন অসুখ হবে না, আর রোগাক্রান্ত না হলে তাকে এন্টিবায়োটিক্স খেতে হবে না। শিশুর ঘন ঘন এন্টিবায়োটিক্স খাওয়ানো শিশুর সঠিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত করে কিন্তু প্রয়োজনে অবশ্যই খাওয়াতে হবে। ভালো থাকবেন।




2 views0 comments