Search

মা 😊

“মা” আমি আপনাকেই বলছি, আমার এই পোস্ট টি শুধুই মায়েদের জন্য আর যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীর কাজে সাহায্য করে থাকেন তাদের জন্য। যারা শিশু বিকাশ এবং বৃদ্ধিকে একটি প্রাকৃতিক সামঞ্জস্যতা ভেবে থাকেন তাদের জন্য নয়, শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এটি একক একটি কাজ নয়। মেয়ে থেকে বৌ আর এই বৌ থেকেই গর্ভধারিনী মা। ভ্রূণ টিকে যত্ন করে একটি সন্তানে রূপদান করতে গিয়ে ফিগার ৩২/৩৪ থেকে ৩৬/৩৮/৪২ এ চলে আসা, হঠাৎ করেই কতো পরিবর্তন মেনে নেওয়া যায়, পরিবর্তন গুলো কিসের,


. শারীরিক . সামাজিক . অর্থনৈতিক .দায়িত্যবোধ .কর্তব্যবোধ এবং অন্যান্য


সব পরিবর্তন তখনই মেনে নেওয়া যায় যখন মা একটু বিশ্রাম নিতে পারবেন অথবা শুধু বাচ্চার কথা ভাবতে হবে না। আর পরিবর্তন যদি মা মেনে নিতে না পারেন তখন কি হবে? নতুন মা কিভাবে কি করবে, নবজাতক ১৯ থেকে ২৬ বার প্রসাব করবে সঙ্গে পায়খানা, ২/৩ ঘন্টা পর পর খাবার দিতে হবে বুকের দুধ বা রেডি মিল্ক, ঘুম পারাতে হবে, বেবি ম্যাসাজ দিতে হবে, নিজের যত্ন, প্রতিদিনের রান্না, ঘরের কাজ এবং আরও কত কি? প্রতিদিন একঘেয়ামি কাজ করতে করতে মা অনেক সময় ভুলেই যায় তার ভালো লাগা এবং ভালো বাসা, ভুলে যায় শাড়ির সাথে ম্যাচ করে টিপ আর চুরি পরতে আরও এরকম অনেক স্বপ্ন ভঙ্গ হয় প্রতিদিন। এই যে এক একটি পর্যায়ে একটি শরীর এবং মন পার করে এর উপরে গবেষণা করে শিশূ জন্মের পূর্বের প্রস্তুতি এবং পরবর্তী প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে, চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, মাকে সুখী রাখার জন্য অনেকরকমের চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত কিন্তু বাংলাদেশে আমরা কি পাচ্ছি!! সেটা আমি গভীরভাবে চিন্তা করি এবং কষ্ট পাই, একটি শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে তাকে শারীরিক ভাবে ও মানসিক ভাবে বড়ো করতে হয়তোবা মায়ের অনেক ছোট ছোট স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে হয় প্রতিদিন।


মায়েরা যা করবেন: ১) প্রতিদিন ১০ মিনিট নিজেকে সময় দিন, আপনার সময়, চায়ের/ কফি কাপ নিয়ে কফি/চাপান বা গল্পের বই পড়বেন। ২) প্রতিদিন সন্তানকে নিয়ে ছোট ছোট ব্যায়াম করুন, অবশ্যই বয়োসউপযোগী। ৩) রাগ করা থেকে বিরত থাকুন। ৪) শিশু ২/১ বেলা কম খেলে কোন সমস্যা হয় না, আমাদের যেমন সর্বদা খেতে ইচ্ছে হয় না তেমন ওদের ও হয় না, পানি পান করতে দিবেন ঠিক হয়ে যাবে। ৫) অতিরিক্ত চিন্তা করবেন না কারণ অতিরিক্ত করতে গিয়ে আসলে আপনি আপনার সন্তানকে নিয়মিত যন্ত্রনা দিচ্ছেন আবার আপনিই কষ্ট পাচ্ছেন কারণ সন্তান কষ্ট পেলেও মা হিসেবে আপনার ভালো লাগে না।

৬)আপনি একটু অবসর সময় কাটান এবং আপনার সন্তানকেও ওর মতো থাকতে দিন। ৭) নিজেকে সুপার বৌ অথবা সুপার ভাবি অথবা সুপার কোনো কিছু প্রমান করা থেকে বিরত থাকুন কারন সুপার হওয়াটা সবচেয়ে বেশি ঝামেলার। সন্তান ৫ বছর হলে আবার নিজেকে সুপার হিসেবে প্রমান করতে পারবেন। ৮) শিশুকে সময় দিন এবং একটিভিটিস করান যাতে শিশু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হলেও তার সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে পারে, কোনো স্পেশাল নিড সিন্টোম থাকলেও প্রখর যেন না হয় কারণ সুন্দর মেধা নিয়ে পৃথিবীতে আসলো কিন্তু পরিচর্যা পেলো না তাহলে শিশুর সঠিক বিকাশ হবে না। ৯) স্বামীকে সময় দিন, তাকে দূরে সরাবেন না, সবচেয়ে কাছের এবং আপন মানুষ হলো আপনার সন্তানের বাবা। আপনি শারীরিক ও মানসিক ভাবে মা আর বাবা কিন্তু মানসিক ভাবে বাবা কারণ সে তার সন্তান আপনার পেটে বড় হতে দেখেছে, অনুভব করেছে কিন্তু শারীরিক যন্ত্রনা দিনের পর দিন আর রাতের পর রাত আপনি করেছেন তাই হঠাৎ করে এই পরিবর্তন মেনে নেওয়া তার জন্য ও কিন্তু কষ্টকর। ১০) শারীরিক অনেক সৌন্দর্য্য পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হবে কিন্তু আবার ঠিক হবে, ঠিক না হলে ও কি বা আসে যায় বয়সের একটি আলাদা সৌন্দর্য্য আছে।

আমার এই লেখাটির উদ্দেশ্য মায়েদের জন্য কারণ আমার মনে হচ্ছে, অনেক মা সাজতে, চুল বাঁধতে, গান শুনতে, ঘুমাতে এমনকি সঠিক সময়ে বাথরুমে যেতে ও পারছেন না বা অনেকে ভুলে গেছেন কিন্তু যারা পারছেন তারা অনেক ভাগ্যবতী, সুন্দর হোক আপনাদের প্রতিটি মুহূর্ত, এই প্রত্যাশায়।

Tripti Podder Early childhood Expert UK



0 views0 comments