Search

Why is your baby biting?



শিশু কেন কামড়াচ্ছে ? অনেক মা, বাবা এবং পরিবার পরিজন এই বিষয়টি নিয়ে ভীষণভাবে চিন্তিত। শিশু যখন কামড়ানো শুরু করে আমরা তাদের খুব সহজেই বলে ফেলে, "You Are A Biter". এটা এক ধরনের ট্যাগ যা বাবা মা বা অন্যরা প্রায়শ ব্যবহার করে থাকেন যা কিনা বাচ্চাদেরকে কামড়ানোর জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। অনেকসময় দেখা যায়, বাবা মা এক্ষেত্রে কিছু পশু পাখির সাথেও বাচ্চাদের তুলনা দিয়ে থাকেন, যাতে বাচ্চারা আরো বেশি করে কামড়ানোর জন্য উৎসাহিত হয়। এটা কখনোই করা যাবে না তাদের বোঝাতে হবে কামড়ানো কোনো ভালো অভ্যাস না। কিন্তু বাচ্চাদের সাথে রাগ করা বা কঠিন শাস্তি দেওয়া এগুলো করা যাবে না। পরিবারের কিংবা পরিবারের বাইরের কারো সামনে শিশুকে অপমানজনক কোনো কথা বলে তাকে লজ্জা দিয়ে ছোট করা যাবে না। এর অর্থ, এই নয় যে শিশুটির প্রতি বেশি মনোযোগী হতে হবে। যে শিশুটিকে কামড়ানো হয়েছে তাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে অন্য শিশুটি বুঝবে যে, সে যদি এমন করে তাহলে কেউ তাকে আদর করবে না, ফলে তার মাঝে অপরাধবোধ তৈরী হবে এবং আস্তে আস্তে তার মাঝে পরিবর্তন আসা শুরু হবে।


শিশু কেন কামড়াচ্ছে :


শিশু যখন তার অনুভূতি বা মনের ভাব ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারেনা, তখন শিশুর মাঝে কামড়ানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। সাধারণত এক বছর থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে এই আচরণ দেখা যায়। এই বয়সের শিশুরা আস্তে আস্তে যেমন আমাদেরকে বুঝতে চেষ্টা করে ঠিক তেমনি তাদেরকেও বুঝাতে চেষ্টা করে। এই বুঝাতে গিয়ে যখন সে ঠিকমত নিজেকে বোঝাতে পারে না তখনই সে জেদ দেখায় যেমন লাথি মারা, থুতু ছিটানো, কামড়ানো ইত্যাদি সে করে থাকে। স্বাভাবিকভাবে ওই সমস্ত শিশুরা অন্য শিশুদের কামড়াচ্ছে বা থুতু ছিটাচ্ছে তাদের সাথে অন্য শিশুরা খেলতে চাইবে না। তখন শিশুটির সাথে আর কেউ মিশতে আসেনা সবাই দূরে দূরে থাকবে। এক্ষেত্রে কোনো বাবা মা যদি দেখেন তাদের বাচ্চাটি কে অন্য একটি শিশু কামড়াচ্ছে, থুতু ছিটাচ্ছে , খামচি দিচ্ছে তখন তারাই নিজের বাচ্চাকে ওই শিশুর থেকে দূরে সরিয়ে ফেলেন। ফলে শিশুটি একঘরে হয়ে যায়, যা শিশুর মানসিক বিকাশে খুবই ক্ষতিকর


। অভিভাবকেরা কিংবা শিশুর পরিচর্যাকারী একটু চেষ্টা করলেই শিশুর এই আচরণগত ত্রূটি সারিয়ে নিতে পারবেন:


  • শিশুর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে বাবা মা তাকে বোঝার চেষ্টা করছেন। তার কথার মূল্য দিচ্ছেন। শিশু কি বলতে চায় তা বাবা মার বোঝার চেষ্টা করতে হবে। মূলত শিশুকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

  • শিশুর রেগে যাবার কারণ বাবা মার বোঝার চেষ্টা করতে হবে। শিশুর সাথে রাগারাগি করে নয় বরং তাকে আদর করে তার সমস্যার কথা খুঁজে বের করতে হবে। শিশুর যখন নতুন নতুন দাঁত উঠে তখন মাড়ি শিরশির করলে, শিশু সামনে যা পায় তাই কামড়ানো শুরু করে।

  • শিশুদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের মন অনুসন্ধানী হয়ে উঠে। শিশুরা তখন তাদের পঞ্চ ইন্দ্রীয়ের মাধ্যমে আশেপাশের পরিবেশ থেকে অনুভব করার চেষ্টা করে, কোন বস্তুর টেস্ট কেমন বোঝার চেষ্টা করে। তখন সে হাতের সামনে যা পায় সবকিছু ধরে মুখে দেয় , কামড়ানোর চেষ্টা করে । এই কামড়ানোর প্রবণতা কোনো খাদ্যের স্বাদ নেওয়া থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে।

  • শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। একটি শিশুর মাঝে কামড়ানোর প্রবণতা দেখা দিলে তার দেখাদেখি বাকি শিশুদের মাঝেও কামড়ানোর প্রবণতা জন্মানো শুরু করে। এক্ষেত্রে যে শিশুটি কামড়ের শিকার হয়েছে তার উপর বেশি মনোযোগ দিতে হবে এবং যে কামড় দিয়েছে তাকে জোরালোভাবে মুখভঙ্গি দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে কোনোভাবেই এই কাজটি করা যাবে না। কামড়ের স্থান খুব তাড়াতাড়ি ধৌত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রি- স্কুলের পরিচর্যাকারীদের এবং বাবা মাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে শিশু কেন কামড়াচ্ছে । তার এই অস্বাভাবিক আচরণের পেছনের কারণ কি হতে পারে, এই বিষয় টি সম্পর্কে জানতে হবে।

  • শিশুকে না কামড়ানোর জন্য উৎসাহ দেওয়া। ৬. যদি শিশুটি কোন কথা/ভাষা ব্যবহার করতে না পারে বা দেরিতে বলে এবং মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে সেক্ষেত্রে শিশুকে একজন ভালো স্পিচ থেরাপিস্ট দেখাতে হবে, যিনি শিশুকে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে বা ইশারা ভাষায় কথা বলতে শিখাবেন। এই মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারার কারণে তার মাঝে অস্বস্তি হয় এবং সে বিরক্ত হয়। তাই শিশুকে ছোটবেলা থেকে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে বা ইশারা ভাষায় কথা বলতে শিখাবেন।

  • শিশু অটিজমের স্পেকট্রাম থাকলে বা ডেভেলপমেন্টাল ডিলে থাকলে সাইন ল্যাঙ্গুয়জ বা ইশারা ভাষায় তাকে বুঝাতে হবে যে কামড়ানো যাবে না। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের মাঝে কামড়ানোর প্রবণতা খুব বেশি থাকে। মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারা, কারো সাথে মিশতে না পারা এবং আচরণগতত্রূটি অটিজম স্পেকট্রাম শিশুদের মধ্যে দেখা যায় । অটিজম স্পেকট্রাম শিশুদের কামড়ানোর প্রবণতা এটি isolated behaviour নয়; এটি একটি বড় সমস্যা এটাকে ছোট করে দেখলে হবে না।

  • SPD (Sensoring Processing Disorder): SPD আক্রান্ত শিশুদের মাঝে কামড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। ছয় মাসের বাচ্চা থেকে বারো/তেরো বছরের শিশুদের এই প্রবণতা দেখা যায়। এক্ষেত্রে কামড়িয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করা তাদের জন্য এক ধরণের কম্ফোর্ট জোন। তারা কোনো কিছু নিয়ে এক্ষেত্রে ভয় পেলে বা কোনো কিছু প্রকাশ করতে চাইলে কামড়িয়ে তা প্রকাশ করে। যেমন: কোন শিশুর যদি অডিওটোরি সেন্স বা শব্দে সমস্যা থাকে তাহলে সে আতশবাজির আওয়াজে কোনোকিছু কামড়াতে চাইবে, কারণ তার সেনসিটিভিটি বেশি। আরো একটি উদাহরণ: একটি পরিবেশে দুটি বাচ্চার মাঝে যদি কোনো খেলনা নিয়ে কাড়াকাড়ি হয়, অন্য বাচ্চাটি কামড় দিয়ে তা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে সে কামড় দেয় সেলফ ডিফেন্স থেকে, বিরূপ কোনো উদ্দেশ্যে নয়। মূল কথা হচ্ছে একটা শিশু কামড়ানোর মাধ্যমে সে সেলফ ডিফেন্স করে, মনের ভাব প্রকাশ করে, নিজের ব্যথা,কষ্ট, রাগ ,জিদ ,ক্ষুধা, সবকিছু প্রকাশ করে, তারা এই কামড়ানোর উপায়টি একটি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ৯। বাবা মাকে বয়স উপযোগী আচরণ বুঝতে হবে ; একটি দুই বছরের শিশু দুই বছরের শিশুর মতো আচরণ করবে। দুই বছরের শিশুর কাছ থেকে চার বছরের শিশুর আচরণ আশা করলে হবে না। এক্ষেত্রে বাবা মাকে জানতে হবে দুই বছরের শিশুর আচরণ কেমন থাকে এবং একটি শিশুকে সেই অনুযায়ী বোঝার চেষ্টা করা।

  • শিশুর যদি কোন অসুবিধা হয় বাবা মাকে এটা বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী তাকে Relax করে তার Tension Release করতে হবে। তাকে সাহায্য করতে হবে। তা না করে যদি বাচ্চাকে প্রি-স্কুলে দিয়ে দেওয়া হয় বাচ্চার উল্টো ক্ষতি হবে। কারণ আমরা জানি বাংলাদেশের প্রি-স্কুল গুলো এখনো সবদিক দিয়ে সুরক্ষিত না। বাচ্চার Safety কিংবা Security নিশ্চিত না করে কোনভাবেই তাদের কাছে বাচ্চাকে সমর্পণ করা যাবে না। বাবা মা যদি প্রি - স্কুলের safety ও security নিয়ে নিশ্চিতও থাকেন, সেক্ষেত্রে শিশুর Separation Anxiety বিষয়টিও চলে আসে, সে দিকটিও ভেবে দেখবেন। Separation Anxiety হল বাবা মার থেকে দুরে থাকার জন্য এক ধরণের উদ্বেগ জন্ম নেওয়া, যা বাচ্চার বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। বাবা মাকে এই বিষয়গুলো খেয়াল রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই বিষয় নিয়ে অন্য আরেকটি লেখায় লিখবো।

  • Provide Items To Bite: বাচ্চাদের মাড়ি শক্ত হওয়া শুরু করলে তাদের মাঝে কাঁমড়ানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। গাজর/শসা ইত্যাদি কামড়াতে দেওয়া। এছাড়াও বাজারে সিলিকন কিংবা কাপড়ের খেলনা, টিদার পাওয়া যায় যা ফ্রীজে রাখতে হয়। ঠান্ডা অবস্থায় থাকলে বাচ্চাদের কামড় দিতে সুবিধা হয় এবং তারা মাড়িতে এক ধরণের সেন্সেশন অনুভব করে যা তাদের জন্য আরামদায়ক। এ ধরনের খেলনা তাদের কিনে দেওয়া যেতে পারে তবে যেহেতু মুখে দিচ্ছে তা অবশ্যই গরম পানি দিয়ে বারবার পরিষ্কার রাখতে হবে। সুতরাং বিভিন্ন বয়সে বাচ্চাদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন আসা শুরু করে। প্যারেন্টিং খুব সাধারণ বিষয় না। প্যারেন্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। তাই শিশুদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন ধাপে তৈরী হওয়া, তাদের পরিবর্তনগুলো বাবা মাদের খুব সতর্কতার সাথে পালন করতে হবে। একটি বাচ্চার জন্য অতিরিক্ত বকাঝকা বা শাস্তি যেমন ক্ষতিকর তেমন ভাবেই অতিরিক্ত আদরও সমান ক্ষতিকর। এই সব বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে পিতামাতাকে শিশুদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভালো থাকবেন। আপনি আপনাকে ভালো রাখতে পারবেন।

2 views0 comments